বগুড়ায় ৫ বছর ধরে শয্যাশায়ী ইমাম হোসেন, ছেলের চিকিৎসায় সহযোগিতা চান বাবা-মা
স্টাফ রিপোর্টার
একসময় বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা করতেন, সাইকেল চালিয়ে মাদ্রাসায় যেতেন, নিয়মিত পড়াশোনা করতেন। কিন্তু এখন বিছানা থেকেই উঠতে পারেন না ইমাম হোসেন। দাঁড়ানো তো দূরের কথা, অন্যের সাহায্য ছাড়া বসতেও পারেন না। দুই হাত ও মাথা ছাড়া শরীরের প্রায় সব অঙ্গই শিথিল হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে জটিল স্নায়ুরোগে আক্রান্ত এই যুবক গত পাঁচ বছর ধরে শয্যাশায়ী।
বগুড়া শহরের লতিফপুর মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা ইমাম হোসেন দরিদ্র আবু বক্কর সিদ্দিক ও আঞ্জুয়ারা বেগম দম্পতির ছোট ছেলে। পরিবারের দুই ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে মেয়েদের বিয়ে হয়েছে। বড় ছেলেও শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। আর ছোট ছেলে ইমাম হোসেন প্রায় এক যুগ ধরে অসুস্থ।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ইমাম হোসেন বগুড়ার ঠনঠনিয়া নুরুল আলা নূর মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি নিয়মিত মাদ্রাসায় যেতেন। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় তাঁর এক পায়ে আঘাত লাগে। এরপর ধীরে ধীরে হাঁটতে সমস্যা শুরু হয়। প্রথমে বাম পায়ে ব্যথা অনুভব করেন, পরে ডান পায়েও একই সমস্যা দেখা দেয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অসুস্থতা বাড়তে থাকে এবং একপর্যায়ে শরীরের প্রায় সব অঙ্গ অবশ হয়ে যায়।
বর্তমানে ইমাম হোসেনের দিন কাটছে বিছানায় শুয়ে। মাঝে মাঝে শরীরে খিঁচুনির মতো ঝাঁকুনি ওঠে। বাবা-মায়ের সহযোগিতা ছাড়া মাথা তুলেও বসতে পারেন না তিনি।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন সময় স্থানীয় ক্লিনিক ও হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া হলেও অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি। চিকিৎসকেরা তাঁকে মেটাক্রোম্যাটিক লিউকোডিস্ট্রফি (Metachromatic Leukodystrophy) রোগে আক্রান্ত বলে জানিয়েছেন। এটি মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের একটি বিরল ও জটিল রোগ, যার ফলে ধীরে ধীরে স্নায়ুর কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়।
বগুড়ার চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু সেখানে যাতায়াত, থাকা-খাওয়া ও চিকিৎসার খরচ বহন করার সামর্থ্য নেই পরিবারের।
ইমাম হোসেনের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক অন্যের বাড়িতে প্রহরীর কাজ করেন। সেই সামান্য আয়েই কোনো রকমে সংসার চলে। পরিবারের দুই ছেলেই অসুস্থ হওয়ায় আর্থিক সংকট আরও বেড়েছে। বসতভিটায় টিনের ছাউনি দেওয়া ছোট একটি বাড়িই তাঁদের একমাত্র সম্বল।
ছেলের চিকিৎসার জন্য সরকার ও সমাজের বিত্তবান মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন বাবা-মা। আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “আমার ছেলেটা যেন অন্য সবার মতো আবার হাঁটতে পারে, মানুষের সঙ্গে মিশতে পারে, এটাই আমার সবচেয়ে বড় চাওয়া। সবাই একটু সহযোগিতা করলে হয়তো ওর চিকিৎসা করানো সম্ভব হবে।”
ইমাম হোসেন বলেন, “আগে চলাফেরা করতাম, পড়াশোনা করতাম। এখন বিছানায় পড়ে আছি। কেন এমন হলো জানি না। আবার স্কুলে যেতে ইচ্ছে করে, বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে ইচ্ছে করে। আমি সুস্থ হতে চাই।”
তাঁর বন্ধুরাও আশা করছেন, একদিন ইমাম হোসেন সুস্থ হয়ে আবার তাঁদের মাঝে ফিরে আসবেন।
ইমাম হোসেনের চিকিৎসায় সহযোগিতা করতে আগ্রহীরা তাঁর মা আঞ্জুয়ারা বেগমের বিকাশ/নগদ নম্বর ০১৭৩৫-১৬৩২১১-এ যোগাযোগ করতে পারেন।