শহীদ জিয়ার জন্মভূমিতে আকবরিয়ার মানবতার আলো
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য আলোকবর্তিকার নাম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। বীরত্ব, দেশপ্রেম, সততা ও নেতৃত্বগুণে তিনি হয়ে উঠেছিলেন কোটি মানুষের অনুপ্রেরণার প্রতীক। তাঁর জন্মভূমি বগুড়ার মাটিও যেন সেই আদর্শ ও মানবিক চেতনার আলোয় আজও আলোকিত। প্রকৃতির বুক চিরে পূর্ব দিগন্তে যখন পূর্ণিমার চাঁদ উদিত হয়, তখন তার জ্যোৎস্না যেমন চারদিকে সৌন্দর্য ছড়িয়ে দেয়, তেমনি এই জনপদে মানবতার আলো ছড়িয়ে যুগের পর যুগ মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান আকবরিয়া।
১৯১১ সালে যাত্রা শুরু করা আকবরিয়া সময়ের পরিক্রমায় হয়ে উঠেছে মানুষের বিশ্বাস ও ভালোবাসার এক অবিচ্ছেদ্য নাম। মানসম্মত খাদ্যপণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে ভোক্তাদের আস্থা অর্জনের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে গড়ে তুলেছে মানবিক দায়িত্ববোধের অনন্য দৃষ্টান্ত। কোর্ট অব ম্যাজিস্ট্রেটের সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত আকবরিয়া গ্র্যান্ড হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই পথচলা পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটির গ্রহণযোগ্যতা ও ঐতিহ্যকে আরও সুদৃঢ় করে।
মানবকল্যাণে ধারাবাহিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আকবরিয়া লিমিটেড অর্জন করে জাতীয় মানবকল্যাণ পদক, যা তাদের সামাজিক দায়িত্ববোধকে রাষ্ট্রীয়ভাবে মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি প্রদান করে।
রমজানজুড়ে এতিমখানা, মসজিদ, মাদ্রাসা ও ছিন্নমূল মানুষের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করে প্রতিষ্ঠানটি। ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে অসহায় শিশুদের ঈদসামগ্রী প্রদান, পথশিশু ও এতিমদের উন্নতমানের খাবার পরিবেশন এবং দুর্যোগকালে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ তাদের মানবিক দায়িত্ববোধের উজ্জ্বল উদাহরণ।
বগুড়া সরকারি শিশু পরিবারে এতিম শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং তাদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে বিশেষ দিবসে উপস্থিত হন আকবরিয়া লিমিটেডের চেয়ারম্যান হাসান আলী আলাল। তাঁর এই উদ্যোগ শিশুদের জীবনে এক ভিন্ন ধরনের আশার আলো জাগিয়ে তোলে।
শিক্ষা বিস্তারেও আকবরিয়ার অবদান প্রশংসনীয়। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা এবং ইসলামি শিক্ষার জন্য মক্তব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি সমাজে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে। একই সঙ্গে পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, বিনামূল্যে চোখের অপারেশনের ব্যবস্থা, শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণসহ নানা মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে চলেছে।
যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে বিভিন্ন ক্রীড়া কার্যক্রমে সহায়তা ও অনুদান প্রদান করছে নিয়মিত। পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণেও প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
নারীর ক্ষমতায়নেও আকবরিয়ার উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য। দরিদ্র নারীদের সেলাই মেশিন প্রদান করে তাদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। এতিমদের পুনর্বাসনের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখানো হচ্ছে। পাশাপাশি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে প্রতিষ্ঠানটি দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
মানসম্মত খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রেও আকবরিয়া দীর্ঘদিন ধরে আস্থার প্রতীক। উন্নতমানের কাঁচামাল, আধুনিক প্রযুক্তি ও কঠোর মাননিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে প্রস্তুত প্রতিটি পণ্যই স্বাদ, বিশুদ্ধতা ও গুণগত মানে দীর্ঘদিন ধরে ভোক্তাদের সন্তুষ্ট করে আসছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষের বিশ্বাস—"আকবরিয়া" মানেই গুণগত মান ও নির্ভরযোগ্যতার নিশ্চয়তা।
ইতিহাসের গৌরব মহাস্থানগড় যেমন বগুড়ার ঐতিহ্যকে বিশ্বদরবারে পরিচিত করেছে, তেমনি আকবরিয়াও মানবসেবা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও গুণগত মানের মাধ্যমে দেশ ও দেশের বাইরে সুনাম অর্জন করেছে।
রাতের নিস্তব্ধতা ভেদ করে যখন পূর্ণিমার চাঁদ তার শুভ্র আলো ছড়িয়ে দেয় ধরণীর বুকে, তখন প্রকৃতির প্রতিটি কণা যেন নতুন প্রাণে জেগে ওঠে। জোছনার মায়াবী পরশে নদী, মাঠ, গাছপালা আর জনপদ এক স্বপ্নিল আবেশে রূপ নেয়। আলোয় আলোকিত চারদিক যেন মানবতার এক নীরব মহাকাব্য রচনা করে। সেই আলোর মতোই আকবরিয়া তার শতবর্ষের পথচলায় মানবতা, সেবা ও আস্থার এক অনন্ত দীপ্তি ছড়িয়ে যাচ্ছে মানুষের হৃদয়ে।
শতবর্ষের ঐতিহ্য ধারণ করে মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া এই প্রতিষ্ঠান নিঃসন্দেহে আগামী প্রজন্মের জন্য এক অনুকরণীয় উদাহরণ। শহীদ জিয়ার জন্মভূমির মাটিতে দাঁড়িয়ে আকবরিয়া যেন আজও নীরবে উচ্চারণ করে—
"মানবতাই সবচেয়ে বড় পরিচয়, মানুষের কল্যাণেই প্রকৃত সফলতা নিহিত।"