বগুড়ার নন্দীগ্রামে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার শিক্ষক জামায়াত নেতা নন
বগুড়ার নন্দীগ্রামে শারীরিক প্রতিবন্ধী শ্যালিকা ধর্ষণ ও গর্ভবতী হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক বাকী বিল্লাহ (৪৮) জামায়াতে ইসলামীর কেউ নন বলে দাবি করা হয়েছে। দলের কর্মী, সমর্থক বা সম্পৃক্ততা নেই উল্লেখ করে ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নেতারা।
আজ শুক্রবার নন্দীগ্রাম পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল আলীম নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুকে বিবৃতি প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতেও ধর্ষণে অভিযুক্ত বাকী বিল্লাহকে অস্বীকার করে স্থানীয় জামায়াত।
উল্লেখ করা হয়, উপজেলার বিজরুল এলাকায় ঘটে যাওয়া ধর্ষণ সংক্রান্ত ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীকে জড়িয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করায় জনগণ অত্যন্ত মর্মাহত। গোছাইল দাখিল মাদ্রাসার সুপার বাকী বিল্লাহর বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও গর্ভবতী করার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তি জামায়াতের কোন পর্যায়ে কখনোই সম্পৃক্ততা ছিল না এবং বর্তমানেও নেই। গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ, ভবিষ্যতে যেকোনো সংবাদ প্রকাশের সময় সাংবাদিকদের আরো দায়িত্বশীল ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে ধর্ষণের ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়।
উল্লেখ্য, প্রতিবন্ধী শ্যালিকা ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় গোছাইল দাখিল মাদ্রাসার সুপার বাকী বিল্লাহকে (৪৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়নের বিজরুল মহল্লার মাওলানা আব্দুল আজিজের ছেলে। এরআগে, বুধবার তার বিরুদ্ধে নন্দীগ্রাম থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গোছাইল দাখিল মাদ্রাসায় যাতায়াতের পথে আত্মীয়তার সুবাদে চাচাতো শ্যালিকার খোঁজ নিতেন অভিযুক্ত বাকী বিল্লাহ। শারীরিক প্রতিবন্ধী যুবতীর দিকে তার কুনজর ছিল। গত ২১ জানুয়ারি বিকেলে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে প্রতিবন্ধী যুবতীকে ধর্ষণ করে। ঘটনার কয়েক মাস পর শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করে পরিবারের সদস্যরা। গত ৬ জুন বগুড়ার ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করানো হয়। প্রতিবন্ধী যুবতী ১৪ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা বলে নিশ্চিত করেন চিকিৎসকরা।