ভোজ্যতেলের আমদানি কমাতে তেলজাতীয় ফসল উৎপাদনে জোর

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬ ১৮:০০ ।
বগুড়ার খবর
পঠিত হয়েছে বার।

দেশে ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন কৃষি খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁরা বলেছেন, উচ্চফলনশীল ও জলবায়ু সহনশীল জাতের আবাদ সম্প্রসারণ, মানসম্মত বীজ সরবরাহ, যান্ত্রিকীকরণ এবং কৃষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশে ভোজ্যতেলের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।

 

 

শুক্রবার দুপুরে বগুড়া শহরের চেলোপাড়ায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) সরেজমিন গবেষণা বিভাগের আয়োজনে ‘তেলজাতীয় ফসলের উন্নত জাত ও উৎপাদন কলাকৌশল’ শীর্ষক কৃষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। এতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শতাধিক কৃষক অংশ নেন।

 

 

বারির মহাপরিচালক ড. মঞ্জুরুল কাদিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য অধ্যাপক এ এস এম গোলাম হাফিজ কেনেডি। বিশেষ অতিথি ছিলেন বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক ড. আব্দুল মজিদ। স্বাগত বক্তব্য দেন বারির সরেজমিন গবেষণা বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাহমুদুল হাসান সুজা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহা তানবীর হাসান।

 

 

বক্তারা বলেন, দেশে ভোজ্যতেলের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২৫ থেকে ২৭ লাখ মেট্রিক টন। এর প্রায় ৮৫ শতাংশ আমদানি করতে হয়, ফলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে। অন্যদিকে, দেশীয় উৎপাদন মোট চাহিদার মাত্র ১৫ শতাংশ পূরণ করতে সক্ষম হচ্ছে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা মেটাতে এবং খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নেই।

 

 

প্রধান অতিথি অধ্যাপক এ এস এম গোলাম হাফিজ কেনেডি বলেন, গতানুগতিক কৃষি থেকে আধুনিক কৃষিতে যেতে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। দেশে সরিষা, সয়াবিন, সূর্যমুখী, তিল ও চিনাবাদামের আবাদ সম্প্রসারণের পাশাপাশি উন্নত জাত কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

 

তিনি আরও বলেন, গবেষণালব্ধ প্রযুক্তি দ্রুত মাঠপর্যায়ে সম্প্রসারণ, কৃষকদের প্রশিক্ষণ, বাজারব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। সরকারের কৃষিবান্ধব নীতি, বারির উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল জাত, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কার্যক্রম এবং কৃষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

 

প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী কৃষকদের মধ্যে বারির উদ্ভাবিত উন্নত জাতের ফলজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে কৃষি বিজ্ঞানী, গবেষক, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, উদ্যোক্তা, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ এবং সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।