বগুড়ায় পুরনো প্রশ্নপত্রে দাখিল পরীক্ষা! তদন্ত কমিটি গঠন, পাঁচজনকে অব্যাহতি

শেরপুর( বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ২০:১৭ ।
বগুড়ার খবর
পঠিত হয়েছে ১৩ বার।

বগুড়ার শেরপুরে দাখিল গণিত পরীক্ষায় পুরনো সিলেবাসের প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেইসঙ্গে দায়িত্ব পালনে অবহেলার দায়ে পরীক্ষার সকল কার্যক্রম থেকে হল সুপার ও চার কক্ষ পরিদর্শককে অব্যাহতিও দেওয়া হয়। সোমবার (২৭এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুজ্জামান হিমু এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন- উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল জোব্বার ও শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মো. জাকির হোসেন। এছাড়া অব্যাহতি ব্যক্তিরা হলেন- হল সুপার হায়দার আলী, কক্ষ পরিদর্শক হাসনা খাতুন, জোবায়দা খাতুন, কাওছার আহম্মেদ ও মামুনুর রশিদ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত রবিবার (২৬এপ্রিল) শেরপুর শহীদিয়া আলীয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রের ১০১ ও ১০২ নম্বর কক্ষে মোট ২৯জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষা দেন। এরমধ্যে ফুলতলা দাখিল মাদ্রাসার ১০জন, রাজারদীঘির ১৩জন, চকসাদির ৩জন ও উলিপুর আমেরিয়া মাদ্রাসার ৩জন পরীক্ষা রয়েছে। তারা সবাই নিয়মিত এবং নতুন সিলেবাসের শিক্ষার্থী। 

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, গণিত পরীক্ষা শুরু হলে তারা নতুন সিলেবাসের শিক্ষার্থী হলেও তাদের হাতে পুরনো ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র তুলে দেন কক্ষ পরিদর্শকরা। এমনকি এই ভুল প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা দিয়ে কেন্দ্র ত্যাগ করেন তারা। একপর্যায়ে বাড়ি যাওয়ার পর বিষয়টি টের পেয়ে পরিবার ও নিজ প্রতিষ্ঠানে জানালে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। এসব বিক্ষুব্ধ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়িদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তার আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তারা।

জানতে চাইলে পরীক্ষার কেন্দ্র সচিব ও শেরপুর শহীদিয়া আলিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এটি অনাকাঙখিত ভুল। পরীক্ষার সময় বিষয়টি কারো নজরে আসেনি। পরবর্তীতে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি মাদ্রাসা বোর্ডে কথা বলেছেন। পরীক্ষার্থীদের ফলাফলে কোনো সমস্যা হবে না বলে দাবি করেন তিনি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুজ্জামান হিমু এ প্রসঙ্গে বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। তাই পরীক্ষার ফলাফলে কোনো সমস্যা হবে না বলে মন্তব্য করেন। এরপরও ঘটনাটি তদন্তে একটি কমিটি করা হয়েছে। সেইসঙ্গে দায়িত্ব পালনে অবহেলার দায়ে হল সুপার ও চার কক্ষ পরিদর্শককে অব্যাহত দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।