জমি নিয়ে বিরোধে বলি হলো একই পরিবারের চার সদস্য : হত্যার দায় স্বীকার

নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬ ২১:৩৩ ।
প্রতিবেশী জেলা
পঠিত হয়েছে ৩৭ বার।

নওগাঁয় আলোচিত হত্যাকান্ডের মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। জমি নিয়ে বিরোধ আর লোভ লালসায় পড়ে পরিবারের সদস্যরাই একই পরিবারের ৪ জনকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। আলোচিত ঘটনায় আটক নিহতের ভগ্নিপতি শহিদুল ইসলাম,ভাগিনা সবুজ রানা ও শাহিন মন্ডল এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। বুধবার দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের মিলনায়তনে এক প্রেসব্রিফিংএ পুলিশ সুপার মোঃ তারিকুল ইসলাম এই তথ্যগুলো নিশ্চিত করেন। আটককৃতদের হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দিকে বুধবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। 

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোঃ তারিকুল ইসলাম বলেন জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের নফির উদ্দিন মন্ডলের এক ছেলে ও ৫ মেয়ের মধ্যে তার ১৭ বিঘা জমি বন্টন করে দেন। জমি বন্টনে হাবিবুর রহমানকে ১৩ বিঘা আর মেয়েদের দেন মাত্র ৪ বিঘা জমি। এছাড়া হাবিবুরের নানীও হাবিবুরকে সমস্ত সম্পত্তি লিখে দেন। এতে বোনরা ক্ষিপ্ত হন। এ নিয়ে ভাইবোন,ভাগিনা,ভগ্নিপতিদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। 

জমির প্রকৃত ভাগ না পাওয়া এবং পুরো সম্পত্তি নিজেদের মধ্যে চলে আসবে এই লোভে পড়ে পরিকল্পিতভাবেই এই পরিবারের সকলকেই নিঃসংশ ভাবে হত্যা করা হয় বলে বলে প্রেস ব্রিফিংএ উল্লেখ করা হয়। 

পুলিশ সুপার বলেন, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সোমবার রাত ১২ টা থেকে রাত ২ টার মধ্যে এই হত্যাকান্ড সংঘঠিত হয়। নিহত হাবিবুর রহমান এর ভগ্নিপতি শহিদুল ইসলাম,ভাগিনা সবুজ রানা ও মো শাহিনসহ ৬/৭ জনের একটি দল দেয়াল টপকিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে। প্রথমে তারা হাবিবকে হত্যা করে। পরে পলিকে মাথায় বাড়ি দিয়ে মাটিতে ফেলে গলা কেটে হত্যা করে। পরে ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় দুই শিশুকে গলা কেটে হত্যা করে তারা নির্বিগ্নে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এসময় তারা বাহির হতে নফির উদ্দিনের ঘরের দরজায় শিকল তুলে দিয়ে রাখে। হত্যাকারীরা বের হয়ে যাওয়ার সময় আবার সেই শিকল খুলে দিয়ে যায়। 

নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার লোকজন হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন ও হত্যাকারীদের গ্রেফতার মাঠে নামে পুলিশ। মাত্র ১২ ঘন্টা ব্যবধানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় এই রহস্য উন্মোচনে সক্ষম হয়। এই ঘটনায় আগেই পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ এর জন্য নিহত হাবিবুরের ভগ্নিপতি শহিদুল, ভাগিনা সবুজ, সাহিন ও দুই বোনকে পুলিশ নির্বাচিত নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের জড়িত শহিদুল, সবুজ ও শাহিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ঘটনাস্থলের আশেপাশে এলাকা থেকে হত্যাকান্ডের ব্যবহৃত হাশুয়া ও ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়। ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। 

এর আগে নওগাঁয় আলোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামী করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে নিহত গৃহবধূ পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন বাদী হয়ে নিয়ামতপুর থানায় এই মামলা দায়ের করেন। নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ওই গ্রামে বইছে শোকের মাতম। স্বজনদের আহাজারীতে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ। এই হত্যাকাণ্ডের পরিবারের সদস্যরা জড়িত থাকার বিষয়টি জানার পর গ্রামের লোকের ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে। উত্তেজিত গ্রামবাশী বুধবার সকালে সবুজের বাড়িতে অগ্নি সংযোগ করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পাশাপাশি গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি শান্ত রাখা হয়েছে বলে নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন। 

এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর মঙ্গলবার বিকেলে মরদেহগুলো উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। সেখানে ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার বিকেলে 

মরদেহগুলো গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং সন্ধ্যায় একই পরিবারের চার সদস্যকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে জানা গেছে।

গত সোমবার রাতে জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে দুই শিশুসহ একই পরিবারের চারজনকে গলাকেটে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। 

নিহতরা হলেন- উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের নমির উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩২), তার স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), ছেলে পারভেজ (৯) এবং তিন বছরের মেয়ে সাদিয়া আক্তার।