নওগাঁয় গৃহবধূ ইয়াসমিন হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৬ ১৮:১৯ ।
পঠিত হয়েছে বার।

নওগাঁয় গৃহবধূ ইয়াসমিন বানুর হত্যায় জড়িতদের বিচার চেয়ে মানববন্ধন করেছে স্বজন ও এলাকাবাসী। রোববার (৮ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টায় শহরের মুক্তির মোড় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনের সড়কে ঘন্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করা হয়। গৃহবধূ ইয়াসমিন বানু বদলগাছী উপজেলার ভরট্র গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের মেয়ে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রায় সাড়ে ৫মাস আগে সদর উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের গোয়ালা গ্রামের জমির শেখের ছেলে আকাশের সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় ইয়াসমিনের। বিয়ের কিছু দিন পর তার স্বামী পরকিয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে ইয়াসমিনের সাথে বিবাদ শুরু হয়। এই ঘটনায় ইয়াসমিন প্রতিবাদ করলে তার ওপর নেমে আসে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। তারপরও ভবিষ্যৎ সুখের আশায় সকল অন্যায় অত্যাচার ও মারপিট সহ্য করে সংসার করতে থাকে ইয়ামিন। গত ফেব্রুয়ারি মাসের ২০ তারিখে আবারো আকাশসহ তার পরিবারের সদস্যরা ইয়াসমিনকে মারপিট করতে থাকলে প্রতিবেশিরা এগিয়ে আসলে, তাদেরকে গালিগালাজ করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ইয়াসমিনের পরিবারের সদস্যদের জানালে সেখানে গিয়ে ইয়াসমিনের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে। এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত করে ইয়াসমিন হত্যায় জড়িতদের বিচারের দাবি জানান তারা।

মানববন্ধনে ইয়াসমিনের বাবা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, আমি গরীব মানুষ। মানুষের কাছে হাত পেতে বিয়েতে মেয়েকে স্বর্ণালংকার বাবদ প্রায় ৫০ হাজার টাকা দিয়েছি। পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়লে এর প্রতিবাদ করলে আমার মেয়েকে শারীরিক নির্যাতন করে জামাই আকাশসহ তার পরিবারের লোকজন। একপর্যায়ে আকাশ ও তার পরিবারের সদস্যরা আমার মেয়েকে নির্যাতন ও মারপিট করে হত্যা করে। আমি এর বিচার চাই।’

নিহতের বোন রেসমা খাতুন বলেন, ‘আমার বোনকে অনেক শারীরিক নির্যাতন ও মারপিট করে হত্যা করা হয়েছে। মারা যাওয়ার পর তার সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন, চোয়াল ফুলা-কালসিরা জখম এবং নাখে রক্তের দাগ ছিলো। পরে সত্য ঘটনাকে গোপন করার জন্য পুলিশকে প্রভাবিত করে কৌশলে সাদা কাগজে সই নিয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করে আর আমাদেরকে বলেন হত্যা মামলা রেকর্ড হয়েছে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশ আসামীদের গ্রেফতার না করলে পরে থানার খোজ খবর নিয়ে দেখা যায় হত্যা মামলা রেকর্ড না করে অপমৃত্য মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। তাই দ্রুত আমার বোনের হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ নিয়ামুল হক জানান বিষয়টি আদালতকে অবহিত করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আরও পড়ুন