লিফট টেকনিশিয়ানকে অপহরণ ও ১৮ লাখ টাকার চাঁদার অভিযোগ: ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
বগুড়ায় এক লিফট টেকনিশিয়ান সংবাদ সম্মেলন করে ‘অ্যাপোলো পাওয়ার লিংক’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক ও ম্যানেজারের বিরুদ্ধে প্রতারণা, অপহরণ, মারধর এবং মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন। বৃহস্পতিবার শহরের এক মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন মিজানুর রহমান সাগর নামের ওই টেকনিশিয়ান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, ‘অ্যাপোলো পাওয়ার লিংক’-এর মালিক মাহবুব সাইদী প্রিন্স এবং প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার রুবেল তার পাওনা টাকা পরিশোধ না করে উল্টো তার বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন।
লিখিত বক্তব্যে মিজানুর রহমান সাগর বলেন, ২০২২ সালে তিনি অ্যাপোলো পাওয়ার লিংকের বিভিন্ন প্রজেক্টে লিফট স্থাপন ও সার্ভিসিংয়ের কাজ করেন। এসব কাজের বিপরীতে তার মোট পাওনা দাঁড়ায় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এর মধ্যে রয়েছে— বিভিন্ন লিফট সার্ভিসিং বাবদ ৩০ হাজার টাকা, উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির পাশে একটি ভবনে লিফট স্থাপনের বিল ৯০ হাজার টাকা ও দত্তবাড়ীতে দুটি লিফট স্থাপনের বিল ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
এছাড়া, প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার রুবেল তার স্ত্রীর চাকরির প্রয়োজনে জরুরি ভিত্তিতে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ধার নেন বলে দাবি করেন তিনি। বিনিময়ে একটি চেক দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে তার কাছে প্রতিষ্ঠানের মোট পাওনা দাঁড়ায় ৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও টাকা পরিশোধ না করে গড়িমসি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মিজানুর রহমানের দাবি, ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর বগুড়া শহরের সূত্রাপুর এলাকায় একটি প্রজেক্টে কাজ তদারকির সময় রুবেল ও কয়েকজন সহযোগী তাকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যান। পরে শহরের জেলখানা মোড় এলাকার একটি অফিসে নিয়ে তাকে আটকে রেখে মারধর করা হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, সেখানে তাকে ফাঁকা স্ট্যাম্প ও অফিসিয়াল প্যাডে স্বাক্ষর দিতে চাপ প্রয়োগ করা হয় এবং উল্টো তার কাছে ১৮ লাখ টাকা দাবি করা হয়। বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও সাজানো বলে দাবি করেন তিনি। পরে সহকর্মীর মাধ্যমে স্থানীয় এক ব্যক্তির সহযোগিতায় তিনি মুক্ত হন এবং সদর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন (মামলা নং ২৯২৬ সি/২০২৪)।
মিজানুর রহমান জানান, ধার দেওয়া টাকা উদ্ধারের জন্য তিনি চেক ডিজঅনার মামলা (নং ২৮৪৫/২৫) দায়ের করেন। তার অভিযোগ, এর পরপরই তার বিরুদ্ধে একটি মারধরের মামলা (নং ২২৪৯ সি/২০২৪) দায়ের করা হয়, যেখানে তাকে ও আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়, তিনি রুবেলকে মারধর করে চোখে গুরুতর আঘাত করেছেন।
তিনি দাবি করেন, অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং পূর্বপরিকল্পিত। ওই মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রচার করা হয়, যা তার সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ন করেছে বলে দাবি করেন।
এছাড়া ২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর তাকে মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে আরেকটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে এর কোনো প্রমাণ নেই বলে দাবি করেন মিজানুর রহমান। উল্টো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে কিছু কল রেকর্ড ও স্ক্রিনশট উপস্থাপন করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মিজানুর রহমান সাগর বলেন, “আমি একজন সাধারণ টেকনিশিয়ান। আমার পরিশ্রমের টাকা চাইতে গিয়ে এখন মিথ্যা মামলা ও হয়রানির শিকার হচ্ছি। আমি জীবননাশের হুমকিতে আছি। প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরাপত্তা চাই।”